Home অধুনা মেট্রো তোমার নাম “লজ্জা”

মেট্রো তোমার নাম “লজ্জা”

6 second read
0
0
46
0Shares

নিজস্ব প্রতিনিধি(কলকাতা) কিছুদিন আগেই পার্কসার্কাসে ট্রেনের মহিলা কামরা লক্ষ করে প্লাস্টিকের প্যাকেট ভর্তি প্রস্রাব ছোড়ার অভিযোগ উঠছিলো। আর তা লাগল কামরায় বসে থাকা মহিলা সাংবাদিকের গায়ে। দোলের রাতে এমনই অভব্যতার শিকার হয়েছেন অদিতি দে নামে এক তরুণী। এবার মেট্রো স্টেশনে হেনস্থার শিকার হলেন এক মহিলা সাংবাদিক। কয়েক দিনের ব্যবধানে এই দুটি ঘটনা ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে তিলোত্তমায় মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে। মহিলা সাংবাদিকদের সাথে যদি এই ঘটনা ঘটে তাহলে সাধারন মানুষের সাথে কি হবে সেই ভেবেই এখন শিয়রে উঠছে শহরবাসী। অনান্য দিনের মত পিংকি অধিকারী নামে ঐ মহিলা সাংবাদিক বৃহস্পতিবার টালিগঞ্জ স্টেশনে টিকিট কেটেছিলেন ময়দান স্টেশনে যাওয়ার জন্য। কিন্ত অভিযোগ যে টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের কর্মী গোপাল সাউ ১৫টাকা টিকিটের টোকনের পরিবর্তে ৫টাকার টিকিটের টোকেন দিয়েছিলেন। এরপরেই ময়দান স্টেশনে যাওয়ার পর সমস্যায় পড়েন ঐ মহিলা সাংবাদিক। এই ঘটনা প্রথম নয় গোপাল সাউ নামে ঐ মেট্রো কর্মী এর আগেও প্রায়শই ঐ মহিলা সাংবাদিককে চুড়ান্ত হেনস্থা করত।এই ঘটনার পর স্যোশাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ করেন ঐ মহিলা সাংবাদিক। পুরো ঘটনা তিনি তুলে ধরেন ফেসবুকে। ঐ তরুণীর বক্তব্য দেওয়া হলো আপনাদের জন্য।

“মেট্রো কর্মীর হাতে হেনস্থা, অপমানিত

মেট্রো তোমার নাম ‘লজ্জা’

মেট্রোকর্মীর হাতেই চূড়ান্ত হেনস্থা,এমনকি প্রায়ই অসভ্য ইঙ্গিত পাওয়ার পরও চুপ করে থাকা ভুল হয়েছে। ভুল করেছি আমি…

অনেকদিন আগেই ওনাকে সায়েস্তা করা উচিৎ ছিল। তাহলে আজ এই বাঁদরামোটা করার সাহস পেতেন না টালিগঞ্জ স্টেশনের গোপাল সাউ নামের ওই টিকিট কাউন্টারের কর্মী। আর না সাহস পেতেন আমাকে হেনস্থা করার।

আগে বলে রাখি, টালিগঞ্জ স্টেশনের এই কর্মী টিকিট কাটার সময় অনেক আকারে ইঙ্গিতে এমনকি হাত ধরেও এমন কিছু ব্যবহার করেছেন যেগুলো ঠিক স্বাভাবিক নয়। এই ঘটনা আগে কয়েকবার আমার সঙ্গে ঘটেছে। কিন্তু আমার ভুল, আমি ব্যাপারটা ওভারলুক করে অন্য কাউন্টারে চলে যেতাম। এর আগেও যদিও মুখে সাবধান করেছিলাম ওনাকে। কিন্তু কাজ হয়নি। আজও একই ব্যাপার উনি ঘটান.. তাও আমি ‘টিকিট কাটতে গিয়ে হাতে ছোঁয়া লাগতে পারে’ ভেবেই বেরিয়ে যাই। এটাই ছিল সবচেয়ে বড় ভুল।

আমি ময়দান স্টেশন অব্দি টালিগঞ্জ থেকে যাই,ভাড়া ১৫টাকা।

কিন্তু যে টোকেন উনি দেন,ওটা ছিল ৫ টাকার।

আমি টোকেন এন্ট্রি করলেও ময়দানে আটকে যাই। এবং সেখানে আমাকে পেনাল্টি দিতে বলা হয়, এবং আমি ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকি, পুলিশ স্টেশনে ধরে নিয়ে গেলেও আমি পেনাল্টি দেবো না আপনারা তদন্ত করুন আগে৷ সেখান থেকে ময়দানের স্টেশন মাষ্টার আমার সামনেই টালিগঞ্জে মেট্রো স্টেশনমাষ্টারকে ফোন করে জানতে পারেন ওখানে টোকেনের চেয়ে ১০ টাকা ক্যাশ বেশি রয়েছে।

অথএব প্রমানিত, আমি ১৫ টাকা এবং স্টেশন ঠিকই বলেছিলাম। বদমায়েসি করেছিলেন ওই কাউন্টার কর্মী।

আমি টালিগঞ্জ স্টেশনে ফিরে আসি। স্টেশন মাষ্টার ছিলেন অতি সজ্জন লোক। তিনি সবটা শোনেন এবং আমাকে জানান ওনার ব্যাপারে আগেও অভিযোগ তারা পেয়েছেন। এমনকি স্টেশনে এসে যখন আমি ওনার সাথে তর্কাতর্কি চলছে সেই সময়ে আরও অনেকে এগিয়ে এসে জানান,এরকম আগেও অনেক মহিলাকে তিনি করেছেন।( ভিডিওতে সবটা রয়েছে।)

স্টেশন মাষ্টার এবং সেই কর্মীর অনুরোধে পুলিশ স্টেশনে এবং আরপিএফের কাছে অফিসিয়াল কমপ্লেনে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের ব্যাপারে লিখিনি। কারণ রুলবুক অনুযায়ী উনি সাস্পেন্ড হয়ে যেতে পারেন এমনকি চাকরিও খোয়াতে পারেন। সারাদিন ধরে শুধুমাত্র এই ব্যাপারটাই চলল। এর মধ্যেও কয়েকজনকে ধন্যবাদ দেবো, ময়দান এবং টালিগঞ্জের স্টেশন মাষ্টার, রিজেন্ট পার্ক থাকার আধিকারিক, সৌরজ্যোতি(নিজের কাজ ফেলে ছুটে আসার জন্য) এবং আরও এক ভালো মানুষ। তবে সব শেষে কয়েকটা প্রশ্ন থেকে যায় –

১) এতদিন অভিযোগ পাওয়ার পরও রেল কেন সেই কর্মীকে একই কাউন্টারে বসিয়ে রেখেছিলেন?

২) একজন মহিলা সাংবাদিক হওয়ার দরুন কিংবা যে কোনো কারণেই পাশে পাওয়া যায় বহু মানুষকে।কিন্তু যারা পান না? তাদের ক্ষেত্রে? মেট্রো কতৃপক্ষ কি সিকিউরিটির এই দায়িত্ব নিচ্ছে?

৩) মেট্রোর এক আধিকারিক আমায় জানালেন ” আপনি ডিস্পলে বোর্ড দেখে নেন নি?” ( নাম বললে অনেকেই চিনতে পারবেন) মানে কি এটা দাঁড়ালো যে আমার টোকেন, সুরক্ষা, সম্মান কোনো কিছুরি দায় মেট্রোর নয়।এবং কর্মী ভুল টোকেন দিলেও তিনি কিন্তু দোষ করেননি।

৪) এখন টাকার অঙ্ক নয়, বরং স্টেশনের নাম না বললে টোকেন দেয় না। আমাকে ময়দান স্টেশনের নামই বলতে হয়েছিল সকলের মতো।তাহলে ভুলটা যদি দুপক্ষে হয়ে থাকে মেনে নি।তাহলে পেনাল্টি শুধু আমার একার কেন? তদন্ত না করেই পেনাল্টি?

৫) এতক্ষনের হেনস্তা করা, সময় নষ্ট এগুলোর জন্য কি মেট্রো কতৃপক্ষ অফিসিয়ালি ক্ষমা চাইবেন?

এবং একটি আবেদন –

মেট্রোর এই রোজের গাফিলতির জন্য গোপাল সাউয়ের মতো লোকেরা সাহস পাচ্ছে রোজ হেনস্থা করার। গোপাল সাউ আরেকটি সুযোগ চেয়েছে। তাই তার কোনোরকম চাকরি নিয়ে টানাটানি হোক চাইনা। একইরকম ভাবে মেট্রোর এই গা ছাড়া ভাব মেনে নেওয়া যায়না।“

0Shares
Load More Related Articles
Load More By voiceofindia24x7
Load More In অধুনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

Sohail – “He’s like my elder brother “ Abour Rajib

Preamble of the Indian Constitution: By the people, for the people,of the people. In fact …